পতেঙ্গার ভিড় এড়িয়ে ঘুরে আসুন কাপ্তাই থেকে, জেনে নিন ৫টি দারুণ রিসোর্টের কথা
শেয়ার করুন
ফলো করুন

জলের রাজ্য কাপ্তাই

কাপ্তাই ভ্রমণপিপাসুদের জন্য পছন্দের এক স্থান। মূলত রাঙ্গামাটি জেলাতে কাপ্তাই লেক অন্তর্ভুক্ত উপজেলাগুলো হলো রাঙ্গামাটি সদর, কাপ্তাই, নানিয়ারচর, লংগদু, বাঘাইছড়ি, বরকল, জুরাছড়ি ও বিলাউছসহ খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি উপজেলার কিছু অংশ। কাপ্তাই হ্রদ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বড় স্বাদু পানির কৃত্রিম হ্রদ। ছবির মতো সুন্দর এই কাপ্তাই লেকে অনেক পর্যটন স্পট আছে।

কাপ্তাই লেকে অনেক পর্যটন স্পট আছে
কাপ্তাই লেকে অনেক পর্যটন স্পট আছে

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কাপ্তাই লেকে ভাসমান হাউজবোট আর লেকের ধারের রিসোর্টগুলো প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পেয়েছে জনপ্রিয়তা। তেমন দারুণ কিছু রিসোর্টের খবর রইল আজ হাল ফ্যাশনে।

নিসর্গ পড হাউস

রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ের শিলছড়িতে নিসর্গ পড হাউস হাজিরটেক এলাকায় কর্ণফুলী নদীর তীরে অবস্থিত। থাইল্যান্ডের পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় পড হাউসের ধারণা অনুযায়ী কাপ্তাইয়ে তৈরি করা হয়েছে ত্রিকোণ এই পড হাউসগুলো। এগুলো দেখতে খুবই সুন্দর । বাঁশ, কাঠ, ছনসহ বিভিন্ন পরিবেশবান্ধব উপাদান দিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই পড হাউস। বাইরে ও ভেতরে রয়েছে নান্দনিক কারুকাজ। কর্ণফুলী নদীর ধারে নিসর্গ রিভার ভ্যালি রেস্তোরাঁ। সেখান থেকে ঢাল বেয়ে নিচে গেলেই এই পড হাউস। এদম কর্ণফুলী নদীর ধারের এই জায়গাটি নিঃসন্দেহে মন ভালো করে দেবে আপনার। এখানে মোট ৯টি কটেজ করা হয়েছে। প্রতিটি কটেজে ৩ জন থাকার মতো সুব্যবস্থা আছে।

ত্রিকোণ এই পড হাউসগুলো এগুলো দেখতে খুবই সুন্দর
ত্রিকোণ এই পড হাউসগুলো এগুলো দেখতে খুবই সুন্দর

৯টি হাউসেরই দেওয়া হয়েছে দারুণ সব নাম।  আকাশকুঞ্জ, মেঘদূত, চন্দ্রপাহাড়, সাঝেরমায়া, নদীবিলাস, আকাশনীলা, আসমানীকুটির, ছায়াবিথি, নিঝুম ও নিরালা। পড হাউসগুলোতে দিনপ্রতি পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা ভাড়া পড়বে। ঢাকার সায়েদাবাদ, আরামবাগ বা গাবতলী থেকে বাসে করে যাওয়া যায় কাপ্তাই। সেখান থেকে সিএনজি বা চাঁদের গাড়িতে করে চলে যেতে পারবেন এই চমৎকার 'নিসর্গ পড হাউজে।

বিজ্ঞাপন

নীলাঞ্জনা বোট ক্লাব এন্ড রিসোর্ট

রাঙ্গামাটির কাপ্তাই লেকের নান্দনিক সৌন্দর্য যারা উপভোগ করতে চান, তাঁদের জন্য নীলাঞ্জনা বোট ক্লাব অ্যান্ড রিসোর্ট দারুণ এক জায়গা। এই রিসোর্টে থাকছে  রুমের সঙ্গে প্রাইভেট পুল। আর পুল থেকে পাওয়া যাবে কাপ্তাই লেকের ইনফিনিটি ভিউ। পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদের ছুটিতে দারুণ এক গন্তব্য হয়তে পারে এই রিসোর্ট। প্রাইভেট সুইমিংপুলসহ কাপল রুম, ডাবল বেডসহ ফ্যামিলি রুম, সুবিশাল ডাইনিংয়ের রেস্তোরাঁ ও আনলিমিটেড কায়াকিং ব্যবস্থা থাকছে নীলাঞ্জনা বোট ক্লাব অ্যান্ড রিসোর্টে।

ঈদের ছুটিতে দারুণ এক গন্তব্য হয়তে পারে এই রিসোর্ট
ঈদের ছুটিতে দারুণ এক গন্তব্য হয়তে পারে এই রিসোর্ট

রাঙ্গামাটির ঝুলন্ত ব্রিজ থেকে স্পিডবোটে ৫ মিনিট দূরে অবস্থিত এই রিসোর্ট। সঙ্গে থাকবে বিনামূল্যে  পিকআপ ও ড্রপঅফ সার্ভিস।পুরো রিসোর্টের ব্যবস্থাপনায় আছে ভ্রমণ নিয়ে কাজ করা সংগঠন অভিযাত্রিক। তাদের ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশে ৫০টি রিসোর্ট ও হাউজ বোট আছে। রেস্তোরাঁয় পরিবেশন করা হয় বাংলা খাবারসহ সকাল ও বিকালের নাস্তা ও বারবিকিউ। খাবারের মান খুবই ভালো বলে জানান সেখান ভ্রমণ করে আসা কয়েকজন। এর ভিউ পয়েন্ট নিঃসন্দেহে আপনাকে কাপ্তাই লেকের প্রেমে পড়তে বাধ্য করবে।

বিজ্ঞাপন

বেরাইন্না লেক শোর অ্যান্ড রিসোর্ট

বেরাইন্না লেক কাপ্তাই  রাঙ্গামাটি জেলার মগবান ইউনিয়নের বোরদম বাজার এলাকায় অবস্থিত। ২০১৬ সালে হিল্লোল চাকমা ও তার তিন বন্ধু মিলে বেরাইন্না লেক শোর ক্যাফে চালু করেছিলেন। শুরুতে এতটা জনপ্রিয় না হলেও বর্তমানে পর্যটকদের মাঝে খুবই সাড়া জাগিয়েছে বেরাইন্না লেক শোর অ্যান্ড রিসোর্ট। এই লেকের কটেজ থেকে প্রাণভরে উপভোগ করা যায় প্রকৃতির অপূর্ব সৌন্দর্য।

এখানকার খাবারের সুনাম আছে
এখানকার খাবারের সুনাম আছে

এখানকার খাবারের সুনাম আছে বলেই অনেকে অন্য রিসোর্টে বেড়াতে এসে দুপুরের খাবারটা বেরাইন্নাতে করে থাকেন। লেকের পানিতে নৌকা নিয়ে ঘুরে উপভোগ করতে পারবেন এর সৌন্দর্য। যারা প্রাকৃতিক পরিবেশ ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য আদর্শ স্থান বেরাইন্না লেক।এই জায়গায় যাওয়ার জন্য প্রথমে রাঙ্গামাটি যেতে হবে। ঢাকা থেকে সরাসরি রাঙ্গামাটি যাওয়ার জন্য ঢাকার সায়েদাবাদ ও গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে হানিফ এন্টারপ্রাইজ, সোহাগ পরিবহন, এস আলম, গ্রীন লাইন, সৌদিয়া পরিবহনের বাস পারবেন। এসি আর নন এসি বাসভেদে জনপ্রতি ভাড়া ৮০০ টাকা থেকে ১৬০০ টাকা পর্যন্ত খরচ পড়বে।

প্রমোদিনী হাউসবোট

অভিযাত্রীকের ব্যবস্থাপনায় এদের রয়েছে চারটি হাউস বোট। প্রতিটি বোটে ১০ জন থাকতে পারবেন । ভেতরে রয়েছে সব আধুনিক সুযোগ-সুবিধা। বোটের চেক ইন টাইম সকাল ১১টা ও চেক আউট টাইম সকাল ৯টা। এই হাউসবোটে করে আপনি পুরো কাপ্তাই লেক ঘুরে রেড়াতে পারবেন।

ভেতরে রয়েছে সব আধুনিক সুযোগ-সুবিধা
ভেতরে রয়েছে সব আধুনিক সুযোগ-সুবিধা

বিভিন্ন জায়গা ও স্থানীয় জনপদ ঘুরিয়ে দেখানো হবে। দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা থাকবে লেকের মধ্যে কোন এক রেস্তোরাঁয়। থাকছে  আনলিমিটেড কায়াকিং, সুইমিং স্পট ভিজিট, বেরাইন্ন্যা লেক শোর ক্যাফেতে ক্রুজিং, রাঙ্গামাটির ঝুলন্ত ব্রিজ ও পলওয়েল পার্ক ঘুরে দেখার ব্যবস্থা। পুরো বোটের ভাড়া ২৫০০০ হাজার টাকা।

লেক ভিউ আইল্যান্ড

এই পর্যটন কেন্দ্রটি  ২০১৭ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই লেকে গড়ে তোলা হয়েছে। লেকের ভেতর পাশাপাশি দুইটি টিলায় ৪ একরের বেশি জায়গা নিয়ে এই আইল্যান্ড তৈরি করা হয়েছে। কাপ্তাই লেকে নৌকায় যখন লেকে ভ্রমণ করবেন তখন পাহাড়ি টিলার গায়ে বড় করে ইংরেজিতে LAKE VIEW ISLAND লেখা দেখতে পাবেন। লেক থেকে ইট ও কংক্রিটের সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতেই দেখতে পাবেন সবুজে ঘেরা কটেজগুলো।

লেক ভিউ আইল্যান্ড
লেক ভিউ আইল্যান্ড
এমন ভিউ দেখা যায় এখান থেকে
এমন ভিউ দেখা যায় এখান থেকে

এখানে দৃষ্টিনন্দন সব কটেজ তৈরি করা হয়েছে। এসি বা নন এসি সব ধরনের কটেজ এখানে আছে। কটেজ পার হলে দেখতে পানিতে ভাসমান কাঠের তৈরি একটি বিশাল বজরা। চিত্রশিল্পী সুলতানের বজরা-র আদলে বানানো হয়েছে এটি। এর নাম দেওয়া হয়েছে নীলকৌড়ি,যা ৫০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি নৌকা। এটি তৈরি করতে খরচ হয়েছে প্রায় ১২ লক্ষ টাকা। টাঙ্গুয়ার হাওরের মতো এই নৌকায় এসি ও  নন এসি রুমে রাত্রিযাপন করতে পারবেন।

ছবি: রিসোর্টগুলোর ফেসবুক

প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ১১: ০০
বিজ্ঞাপন