কর্মব্যস্ত দুনিয়ার সঙ্গে তাল মিলাতে গিয়ে প্রায়ই আমাদের মগজ হয়ে উঠে টক্সিক। নানা ধরনের দুশ্চিন্তা ও ভাবনায় ভরে ওঠে তা। নানা চাপে মগজ ওভারলোড হয়ে যায় টক্সিসিটিতে। কাজের ধারা বজায় রাখতে ও ভালো থাকতে এজন্য শরীরের মতো মগজকেও ডিটক্স করার প্রয়োজন পড়ে। দরকার হয় খানিকটা প্রশান্তির। আজ আমরা জানব কিভাবে কিছু সহজ উপায়ে মগজকে ডিটক্স করা যায়।
মনকে রিসেট করুন
আমরা যেমন প্রতিনিয়ত বিভিন্নভাবে আমাদের শরীরকে ডিপক্লিন করি, তেমনি মনকেও গভীরভাবে পরিষ্কার করা জরুরী। মনের সব অপ্রয়োজনীয় ভাবনা, দুশ্চিন্তা দূর করতে হবে।
এর মাধ্যমে আপনি মানসিক প্রশান্তি, স্থিতিশীলতা ও সামগ্রিক সুস্থতা লাভ করতে পারবেন। শান্ত ও পরিষ্কার মন আপনাকে কাজে আরো গভীর মনোযোগ দিতে ও জীবনকে সম্পূর্ণ উপভোগ করতে শেখাবে।
সুন্দর কিছুর মাধ্যমে দিনের শুরু করুন
দিনের শুরুই বলে দেয় আপনার সারাটা দিন কেমন যাবে। সকালে উঠেই মোবাইল হাতে নিয়ে নোটিফিকেশন চেক না করে বরং কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করুন ও পারিপার্শ্বিক সৌন্দর্য উপভোগ করুন। নিজের বা আশেপাশের ভালোলাগার কিছু ছবি তুলুন। যা আপনাকে সবচেয়ে বেশি প্রশান্তি দেয় এমন কিছু করুন।
মর্নিং ওয়াক শেষে পর্যাপ্ত পরিমান পানি পান করুন ও কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিন। পানি মস্তিষ্ককে চাঙা করতে সহায়তা করবে ও শরীর থেকে টক্সিন বের করে দেবে।
তুলনামুলক কঠিন কাজগুলো দুপুরের আগে শেষ করুন
মানুষের মগজ সাধারণত সকালবেলা সবচেয়ে বেশি প্রোডাক্টিভ ও কার্যকর থাকে এবং তখন তা বেশি জটিল কাজ করতে সক্ষম। তাই কঠিন ও ঝামেলাপূর্ণ কাজগুলো ফেলে না রেখে দুপুরের আগে শেষ করার চেষ্টা করুন।
হতে পারে এটি কোনো জরুরী রিপোর্ট লেখা, সামনের পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি বা কোন গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্ট সামলানো। এসব জটিল কাজ দ্রুত সম্পাদন করা কাজের দীর্ঘসূত্রতা দূর করে এবং সারাদিন ধরে মানসিক প্রশান্তি দান করে।
অন্তত ত্রিশ মিনিট দৌড়ান বা ব্যায়াম করুন
শারীরিক চলাফেরা আপনার শরীরের পাশাপাশি মনকেও সতেজ করতে গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ব্যায়াম অ্যান্ডোরফিন নিঃসরণ করে, মানসিক চাপ কমায় এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করে।
এমনকী ছোট ব্যায়াম যেমন হাঁটা, স্ট্রেচিং বা যোগব্যায়াম মগজের চাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত হাঁটাচলা এনার্জি লেভেলকে অনেকাংশে বাড়িয়ে দেয়।
দিনে আধা ঘন্টা বই পড়ুন
বর্তমান সময়ে অতিরিক্ত সামাজিক মাধ্যম, টেলিভিশন আর ডিভাইসে আসক্ত হওয়ায় সব মাধ্যম থেকে আমাদের মগজ প্রয়োজনের অতিরিক্ত তথ্য গ্রহণ করে থাকে। এটি মস্তিষ্কে আলাদা চাপ সৃষ্টি করে।
তাই অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমের পরিবর্তে কিছুক্ষণ বই পড়ুন। বই পড়া আপনার মস্তিষ্ককে উদ্দীপিত করে, একাগ্রতা বাড়ায় এবং আপনার জ্ঞানকে বিকশিত করে। এটি চাপও কমায়।
আপনার কৃ্তজ্ঞতার জায়গাগুলো লিখে রাখুন
দৈনিক গ্র্যাটিচিউড ডায়েরি বা কৃতজ্ঞতার রোজনামচা রাখলে তা আপনার মগজকে অনেকটা শান্ত করবে। কাজটি প্রতিদিন করবেন। রোজ নিজের তিনটি ভালো কাজের তালিকা লিখে রাখবেন। হোক সেটা ছোট বা বড়। নিজের প্রাপ্তি ও জীবনের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা উচিত এমন জায়গাগুলোর কথা লিখে রাখা মানসিক চাপ কমায়। আর তা এখন বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত।
সেই সঙ্গে এটি মানসিক প্রশান্তিও দান করে। জীবনের ইতিবাচক দিকে মনোনিবেশ করার মাধ্যমে আপনি আপনার মনকে প্রতিবন্ধকতার পরিবর্তে জীবনের সম্ভাবনা ও সুযোগগুলো দেখতে শেখাতে পারেন।
মানসিক প্রশান্তি আপনার কর্মস্পৃহাকে আরো বাড়িয়ে তুলবে। উন্নত করবে আপনার কাজের মানকে। তাই দিনের কাজের মাঝে এমন সহজ কিছুর পদক্ষেপের মাধ্যমে টক্সিক হয়ে ওঠা মগজকে ডিটক্স করতেই পারি আমরা অনায়াসে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
ছবি: পেকজেলস