ভারী কিংবা হালকা যেমনই হোক না কেন, স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ত্বক পেতে চাইলে বাসায় ফিরেই মেকআপ তোলাটা জরুরি। ক্লান্তি বা অলসতার জন্য অনেকেই মেকআপ করা অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়েন। কিন্তু এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে পরবর্তী সময়ে ত্বকে নানা সমস্যা দেখা দেয়। তাই সবারই সঠিকভাবে মেকআপ তোলার নিয়মগুলো জেনে নেওয়া উচিত। কারণ, মেকআপ তোলার সময় আবার অতিরঞ্জিত কিছু করলে বা মেকআপের অবশিষ্টাংশ ত্বকে থেকে গেলে পরবর্তী সময়ে ব্রণ, র্যাশ, ব্ল্যাকহেডস, হোয়াইটহেডস ও অ্যালার্জির মতো সমস্যা হতে পারে।
মেকআপ করার সময় ফাউন্ডেশন, প্রাইমার, সানস্ক্রিন, ময়েশ্চারাইজার, ব্লাশঅন, হাইলাইটার—অনেক কিছুই ব্যবহার করা হয়। তার ওপর ত্বকে জমে বাইরের ধুলোবালু। তাই ত্বক গভীরভাবে পরিষ্কার করতে প্রথমে মেকআপ রিমুভার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে নিন। এ ক্ষেত্রে ক্লিঞ্জিং অয়েল ও মাইসেলার ওয়াটার ব্যবহার করা যেতে পারে। পাতলা একটি সাদা কাপড় বা কটন প্যাডে মাইসেলার ওয়াটার নিয়ে ত্বক পরিষ্কার করে নিন। ক্লিঞ্জিং অয়েল ব্যবহার করতে পরিমাণমতো হাতে নিয়ে মুখে মাখলেই হবে। এরপর ভালো একটি ক্লিঞ্জার দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধোয়ার পর ৫ থেকে ১০ মিনিটের জন্য গরম পানির ভাপ নিলে ত্বকের রোমকূপগুলো খুলে যাবে এবং ত্বকের গভীর থেকে ধুলোবালু মেকআপ উঠে আসবে সহজেই।
মুখ থেকে মেকআপ তোলার সময় পুরোটা একসঙ্গে তুললেও চোখের মেকআপ অবশ্যই আলাদাভাবে তুলে নিতে হবে। চোখের মেকআপ আগে না তুলে নিয়ে পুরো মুখের মেকআপ তুলতে যাবেন না। এতে চোখের কাজল, মাসকারা, আইলাইনার পুরো মুখে লেগে যেতে পারে, যা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। বাজারে এখন চোখের মেকআপ তোলার জন্য আলাদা মেকআপ রিমুভার পাওয়া যায়। যদি তা সাধ্যের বাইরে হয় হয়, তাহলে নারকেল তেল বা বেবি অয়েল দিয়েও চোখের মেকআপ তুলতে পারেন। কটন প্যাড বা ফেসিয়াল টিস্যুতে সামান্য তেল নিয়ে প্রথমে আইলাইনার বা কাজল তুলে ফেলুন।
অতিরিক্ত ঘষাঘষির ফলে ত্বকের টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই মেকআপ তোলার সময় খুব জোরে ত্বকে ঘষাঘষি করা যাবে না। মেকআপ রিমুভার দিয়ে মেকআপ তোলার পর একটি ফেসিয়াল টিস্যু বা পাতলা শুকনা কাপড় দিয়ে আস্তে আস্তে ত্বকের অতিরিক্ত তেলচিটচিটে ভাব তুলে ফেলতে হবে। এরপর ক্লিঞ্জার ব্যবহার করতে হবে। তা-ও খুব আলতো হাতে।
বাজারে এখন অনেক ব্র্যান্ডেরই মেকআপ রিমুভিং ওয়াইপস পাওয়া যাচ্ছে। সারা দিনের ক্লান্তি শেষে এটি দিয়ে সহজেই মেকআপ তুলে ফেলা যায় বলে অনেকেই অনায়াসে ব্যবহার করেন এগুলো। কিন্তু এই মেকআপ রিমুভিং ওয়াইপসগুলো পুরো মেকআপ ঠিকমতো তো তোলেই না, বরং ত্বকের ধুলোবালু বা ময়লা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নিয়ে গিয়ে ত্বকের আরও ক্ষতি করে। যদি একবারেই খুব ক্লান্ত থাকেন বা মেকআপ তুলতে ভালো না লাগে, তবে মাইসেলার ওয়াটার কিনে রাখুন। এটা দিয়ে মুখ ধুয়ে নিলেও ত্বক অনেকটা পরিষ্কার হবে।
মেকআপ রিমুভার ও ক্লিঞ্জার দিয়ে ত্বক পরিষ্কার করার পর ত্বক শুষ্ক, রুক্ষ হয়ে যায়। যার ফলে ত্বকে ধীরে ধীরে বয়সের ছাপ পড়ে যেতে পারে ত্বকের ব্যারিয়ার ড্যামেজও হয়ে যেতে পারে। তাই মুখ ধোয়ার পর অবশ্যই ত্বকে টোনার, সিরাম, ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।
ছবি: পেকজেলসডটকম